
চিনের মেগা প্রজেক্ট রুখতে কেন্দ্রের সিয়াং বাঁধ পরিকল্পনা, তীব্র প্রতিবাদের মুখে অরুণাচল
চিনের প্রভাব রুখতে অরুণাচলে ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা কেন্দ্রের। তবে পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কায় এবং স্থানীয় ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করছে।
সীমান্তে চিনের আগ্রাসন রুখতে এবং কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে অরুণাচল প্রদেশে ১১,২০০ মেগাওয়াটের এক বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বা সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্প (SUMP) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই মেগা প্রজেক্টের কথা জানাজানি হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অরুণাচলের বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজ বা 'জেন জি' এই বাঁধ নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করছে, যা এখন এক বড়সড় সংকটের রূপ নিয়েছে।
প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই বাঁধটি মূলত চিনের প্রভাব কমানোর একটি কৌশল। ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস সংলগ্ন এলাকায় ভারতের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে এবং বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এই বিশাল বাঁধের ফলে ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এছাড়া বাঁধের কারণে নদীগর্ভ শুকিয়ে যাওয়া এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তুলবে।
আন্দোলনের মূলে রয়েছে অরুণাচলের শিক্ষিত যুবসমাজ। তাদের দাবি, উন্নয়নের নামে পরিবেশের এই চরম ক্ষতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন রাজপথে নেমে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের অভিযোগ, তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই প্রকল্প স্থানীয় সংস্কৃতি এবং আদিবাসী ঐতিহ্যের পরিপন্থী। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করতে তারা এই বাঁধ নির্মাণের বিপক্ষে একজোট হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার যদিও দাবি করছে যে এই প্রকল্প জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং এর ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে, কিন্তু স্থানীয়দের আস্থা জয় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশবাদীরা সতর্ক করছেন যে, হিমালয়ের সংবেদনশীল এলাকায় এমন বড় নির্মাণকাজ দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ফলে একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা আর অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষা— এই দুই বিপরীতমুখী চিন্তার লড়াইয়ে এখন উত্তপ্ত অরুণাচল।
সামগ্রিকভাবে, সিয়াং বাঁধের পরিকল্পনাটি এখন কেবল একটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লড়াই নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে পরিবেশ বনাম উন্নয়নের দ্বন্দ্বে। কেন্দ্র যদি স্থানীয়দের উদ্বেগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় এবং স্বচ্ছ আলোচনা না করে, তবে এই প্রতিবাদের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন একমাত্র পথ।

