
হাওড়ায় ডেঙ্গির দাপট, এক সপ্তাহেই আক্রান্ত ১৫০ ছাড়াল; উদ্বেগে স্বাস্থ্য দপ্তর
১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে হাওড়ায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরনিগম ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে।
বর্ষার বিদায়বেলায় যখন সাধারণ মানুষ শীতের আমেজ পাওয়ার অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই হাওড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত ১৪ থেকে ২০ অক্টোবরের মাত্র এক সপ্তাহের পরিসংখ্যানেই হাওড়া পুরনিগম ও সংলগ্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। সংক্রমণের এই দ্রুত গতি স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং ঘিঞ্জি এলাকায় মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, বর্ষার শেষে জমে থাকা জল এবং সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অনেক বাড়ির ছাদে বা বাগানের টবে জল জমে থাকায় সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটছে। পুরনিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করতে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে আক্রান্তদের সংখ্যার এই হঠাৎ বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাওড়া পুরনিগম ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ফগিং এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা শিবির চালানো হচ্ছে যাতে মানুষ নিজেদের চারপাশে জল জমতে না দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বরের উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো এবং প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
তবে কেবল সরকারি পদক্ষেপ দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মীরা সচেতন করতে গেলেও বাড়ির মালিকরা সহযোগিতা করছেন না। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, কিন্তু অবহেলা করলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশারির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, হাওড়ায় ডেঙ্গির এই নয়া ঢেউ মোকাবিলায় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমেই এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও না বাড়ে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
