
ম্যাককিনসে ছেড়ে এবার গুগলে আইআইএম কলকাতার জাহ্নবী, ক্যারিয়ার বদলের নেপথ্যে কী কারণ?
আইআইএম কলকাতার প্রাক্তন ছাত্রী জাহ্নবী ম্যাককিনসে ছেড়ে যোগ দিলেন গুগলে। ক্যারিয়ারের নতুন লক্ষ্য এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই এই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়াদের কাছে ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোম্পানির মতো আন্তর্জাতিক কনসালটিং সংস্থায় চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই এক বড় স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংস্থায় কাজ করার পরও বড় সিদ্ধান্ত নিলেন আইআইএম কলকাতার প্রাক্তন ছাত্রী জাহ্নবী। পেশাগত জীবনের এক নতুন দিগন্ত খুলে নিতে তিনি এবার টেক জায়ান্ট গুগলে যোগ দিয়েছেন। কর্পোরেট দুনিয়ায় এই ধরণের উচ্চপদস্থ কর্মীদের এক সংস্থায় থেকে অন্য সংস্থায় যাওয়া সবসময়ই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
সাধারণত কনসালটিং ফার্মে কাজের চাপ এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টা থাকে প্রচুর। জাহ্নবীর ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তনের পেছনে ব্যক্তিগত লক্ষ্য এবং পেশাগত উন্নতির আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইআইএম কলকাতার মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করার পর জাহ্নবী তাঁর মেধা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাককিনসিতে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ করে তুলেছে, যা এখন গুগলের মতো প্রযুক্তি সংস্থায় আরও বড় পরিসরে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি।
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির জয়জয়কার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের যুগে টেক কোম্পানিগুলো এখন শুধু ইঞ্জিনিয়ার নয়, বরং দক্ষ ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ খুঁজছে। জাহ্নবীর এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রজন্মের পেশাদাররা এখন শুধু নামী সংস্থায় থাকতেই পছন্দ করেন না, বরং যেখানে উদ্ভাবন এবং সৃজনশীলতার সুযোগ বেশি, সেখানেই নিজেদের মেলে ধরতে চান। গুগলের কর্মসংস্কৃতি এবং কাজের পরিবেশ তাঁদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।
এই চাকরি বদল কেবল একজনের ক্যারিয়ার পরিবর্তন নয়, বরং এটি আইআইএম কলকাতার শিক্ষার্থীদের সাফল্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত। কলকাতার মেধাবী পড়ুয়ারা যে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করছেন, জাহ্নবীর এই যাত্রা তারই প্রতিফলন। দক্ষ মানবসম্পদ যখন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তা সামগ্রিক পেশাদার পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পরিশেষে বলা যায়, ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি বড় সংস্থায় প্রবেশ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সঠিক সময়ে সঠিক মোড় নেওয়া ততটাই প্রয়োজনীয়। জাহ্নবীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত অন্যান্য উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। অভিজ্ঞতার সাথে নতুন প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি গুগলে কী ভূমিকা পালন করেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।




